আজ নজরুল জয়ন্তী

May 25, 2017,11:23 pm, By Riyad Hossain

post image

আজ (বৃহস্পতিবার) এগারোই জ্যৈষ্ঠ— নজরুল জয়ন্তী। বাঙালি যার কাছে প্রেম আর দ্রোহের ভাষা খুঁজে পেয়েছে, উদ্বুদ্ধ হয়েছে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে, সেই বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মবার্ষিকী পালনের নানা আয়োজন দেশজুড়ে। নজরুলের লেখনীতে সবসময়ই বাংলাদেশ উজ্জ্বল, তাই তিনি জাতীয় কবি -বাংলার জাগরণ, মুক্তি ও স্বাধীনতার কবি। অনিঃশেষ প্রেরণার উৎস নজরুল-চেতনা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪০ বছর আগেই নজরুল লেখেন এই বাংলাদেশ-প্রশস্তি। পূর্ববঙ্গকে পরিচিতি দেন "বাংলাদেশ" নামে।

নজরুলের লেখায় বারবারই এভাবে ঘুরে ফিরে এসেছে বাংলাদেশের সৌন্দর্যময় রূপচিত্র, দেশপ্রেম, নদীবিধৌত বাংলার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দুরবস্থার কথা। প্রেম, মানবিকতা ও দ্রোহের প্রকাশ এর পদে পদে। নজরুলের জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হলেও তার জীবনের ঘটনাবহুল সবকিছুই বাংলাদেশে।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে দরিরামপুর হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন। নার্গিস আর প্রমীলা - এ দুই নারীর সঙ্গে প্রেম-বিয়ে ও বিরহগাথায় কবিজীবনের ভেতর-বাহির আন্দোলিত হয়েছে দারুণভাবে।

প্রেম, দ্রোহ আর নবজাগরণের কবি -কাজী নজরুল ইসলাম। সাম্য আর মানবতাবাদী এই কবি সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুপমণ্ডুকতা, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ছিলেন সবসময় সোচ্চার।

গবেষকদের মতে, শতবছর পর এসেও বর্তমান বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রপন্থার উত্থানের এ সময়টায় অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক উন্নত শির-নজরুল।

সাহিত্য-সঙ্গীতের সকল শাখা তাঁর দৃপ্ত ও দ্রোহী সৃজনশীলতায় সমৃদ্ধ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর রণসঙ্গীত উদ্দীপক হিসেবে কাজ করেছে।

১৯৪২ সালে অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারান কবি। জীবনের শেষ সময়টায় আবার স্বাধীন বাংলাদেশে। ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে জাতীয় কবির মর্যাদায় সপরিবার ঢাকায় নিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধু।

১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে দেহত্যাগ করেন তিনি। অবসান ঘটে দীর্ঘ ৩৪ বছরের নীরবতার। যে কোনো সঙ্কটে, আন্দোলনে, প্রতিবাদে, সচেতনতায় আজো জাতির প্রেরণা জাতীয় কবি।

Related articles

post image post image post image

©MyBlog.com

- 2017
Facebook Twitter LinkedIn GooglePlus